Wednesday, August 24, 2016

আপনার সহকর্মী কি মানসিক রোগী? ১২ লক্ষণে বুঝে নিন

আপনার সহকর্মীর সঙ্গে কাজ করতে যদি সুবিধা না হয় কিংবা তিনি যদি প্রায়ই আপনার সঙ্গে বিরূপ আচরণ করে তাহলে খুবই হতাশ হন? এ ধরনের পরিস্থিতিতে পড়লে আপনার সহকর্মীর কোনো মানসিক সমস্যা রয়েছে কি না, জেনে নিন। কারণ সহকর্মীর বিরূপ আচরণের পেছনে থাকতে পারে মানসিক সমস্যা। এ লেখায় দেওয়া হলো ১২ লক্ষণ, যা মিলে গেলে বুঝবেন সহকর্মী একজন সাইকোপ্যাথ। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে বিজনেস ইনসাইডার। 

  1. দুঃখবাদী তিনি যদি সর্বদা এমন আচরণ করেন, যা মন খারাপ করে দেয় তাহলে সতর্ক হোন। এ ক্ষেত্রে তার আচরণ হতে পারে দুঃখবাদী। এ ছাড়া আরেকটি বড় উদাহরণ হতে পারে ধ্বংসচেষ্টা। অর্থাৎ কোনো বিষয় ঠিক করার বদলে ধ্বংস করে ফেলার আগ্রহ থাকতে পারে এ ধরনের মানুষের মাঝে। 
  2. মেকি উপস্থাপনায় স্বাচ্ছন্দ্য সাইকোপ্যাথরা নিজেকে সুস্থভাবে উপস্থাপনে যথেষ্ট পারদর্শী। স্বাভাবিক কথাবার্তায় তারা নিজের মানসিক সমস্যা গোপন করে নিজেকে সাবলীলভাবে উপস্থাপন করতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে তাদের গভীরতা কম হয়। অল্প আলোচনায় অনেকেরই ধারণা হয় যে ব্যক্তিটি যথেষ্ট ভালো ও ছিমছাম মানুষ। 
  3. কল্পনায় নিজেকে বড় মনে করা সাইকোপ্যাথরা প্রায়ই নিজেকে বড় কোনো ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করেন। তারা প্রায়ই কল্পনার রাজ্যে বসবাস করেন। এ কারণে তারা অনেকে নিজেকে বিশ্বের ক্ষমতার কেন্দ্রের ব্যক্তি হিসেবে কল্পনা করেন। 
  4. প্যাথলজিক্যাল মিথ্যাবাদী সাইকোপ্যাথরা প্যাথলজিক্যালি মিথ্যাবাদী হতে পারেন। তারা মূলত আবেগ নিয়ে মিথ্যা কথা বলেন। এ কারণে তাদের মিথ্যাকে সহজেই সত্য বলে ভ্রম হতে পারে। 
  5. পরাশ্রয়ী এ ধরনের ব্যক্তিরা মানসিকভাবে পরাশ্রয়ী জীবনযাপন করেন। তারা প্রায়ই শুধু নিজের কথাই ভাবেন। এ জন্য তারা অন্যের কথা ভাবতে মোটেই আগ্রহী থাকেন না। আর এ কারণে তাদের জীবনযাপন বিষয়ে কোনো সমালোচনাও তারা সহ্য করেন না। 
  6. ধূর্ত এবং ধান্দাবাজ এ ধরনের ব্যক্তিরা প্রায়ই ধূর্ত এবং ধান্দাবাজ ধরনের হয়ে থাকেন। এ কারণে তারা প্রায়ই কোনো বিষয়ের সঠিক চিত্র উপস্থাপন না করে নিজের মনগড়া বিষয় উপস্থাপন করেন। এ ছাড়া তারা নিজের বিষয়ে উচ্চ ধারণা পোষণ করার কারণে প্রায়ই মিথ্যার আশ্রয় নেন। 
  7. আচরণে মারাত্মক সমস্যা এ ধরনের ব্যক্তিরা আচরণগত সমস্যায় ভোগেন। এ কারণে প্রায়ই তাদের সহকর্মীরা বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হন। তাদের আচরণ শুধু কর্মক্ষেতেই অন্যদের ত্যক্ত করে না, কর্মক্ষেত্রের বাইরেও নানা কারণে তারা আচরণের কারণে সমালোচিত হন। 
  8. দোষ স্বীকার ও রসবোধের অভাব এ ধরনের ব্যক্তিরা নিজস্ব ভুল-ভ্রান্তি কোনোভাবেই স্বীকার করতে চান না। এ ছাড়া তাদের রসবোধের অভাবও প্রকট। এ কারণে অনেকেই এ ধরনের মানুষকে পছন্দ করেন না। 
  9. অবাস্তব দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য এ ধরনের ব্যক্তিরা কল্পনার জগতে বাস করায় তাদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য প্রায় সময়ই অবাস্তব হয়ে থাকে। ফলে তারা একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে থাকলেও নিজেরাই তা বুঝতে পারেন না। 
  10. অস্বাভাবিক আবেগ এ ধরনের ব্যক্তিদের আবেগগত সমস্যা থাকে। অন্য মানুষ যে ক্ষেত্রে আবেগে আপ্লুত হয়ে যায় সে ক্ষেত্রে এরা মোটেও কোনো অনুভূতি প্রকাশ করেন না। আবার কোনো ক্ষেত্রে অন্যরা যখন আবেগগতভাবে কোনো আগ্রহ অনুভব করেন না সেখানে এরা আবেগি হয়ে পড়েন। 
  11. সহজেই মেজাজ হারানো এ ধরনের ব্যক্তিরা তাদের মেজাজ ধরে রাখতে পারেন না। সংযত থাকার উদাহরণ তাদের কমই দেখা যায়। কোনো তুচ্ছ কারণেও হঠাৎ করে তারা মেজাজ হারিয়ে প্রচণ্ড রেগে যেতে পারেন। 
  12. আইনের বাইরে মানুষের জন্য বহু ধরনের আইন থাকলেও এ ধরনের ব্যক্তিরা নিজেদের সে আইনের বাইরে মনে করেন। আর এ কারণে তারা অন্যদের আইন মান্য করা অবস্থায় দেখতে চাইলেও নিজেরা আইন মানতে আগ্রহী থাকেন না। 

No comments:

Post a Comment