Monday, September 2, 2019

ডিপ্রেশনের কারণ, লক্ষণ ও এ থেকে মুক্তির উপায়

সারা বিশ্বেই ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতা এক ভয়াবহ ব্যাধি বলে স্বীকৃত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পৃথিবীতে বর্তমানে প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন লোক এই বিষণ্ণতা ব্যাধিতে ভুগছে যা তাদেরকে অক্ষমতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বাংলাদেশেও দিন দিন বিষণ্ণতায় ভোগা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। দুঃখজনক হলো, বিষণ্ণতা যে একটা রোগ, এদেশে সেটাই অনেকে বোঝে না। বা বুঝলেও তা স্বীকার করতে চায় না। 
ডিপ্রেশন যে কি ভয়াবহ ব্যাধি তা আমি কিছুটা দেখেছি। আমার এক আত্মীয় দীর্ঘদিন এ রোগে ভুগছেন। তিনি কোন কাজ করতে পারেন না, কোন কিছুতে উৎসাহ পান না, ঠিকমত কারো সাথে কথা বলেন না, সারাদিন কান্নাকাটি করেন। ভয়াবহ অবস্থা! প্রথমে কেউ বুঝতো না, কেন উনি এমন করেন! ডাক্তাররাও শুরুতে উনার রোগ ধরতে পারেননি। এ কারণে প্রথম কিছু দিন উনার ভুল চিকিৎসা হয়েছিল, যা অবস্থা আরও খারাপের দিকে নিয়ে যায়। অজ্ঞতার কারণে অনেকেই বলে থাকে উনি পাগল হয়ে গেছেন, যা তাকে আরও অসুস্থ করে তোলে। শুধু তার এই বিষণ্নতা রোগের কারণে তার নিজের তো বটেই, তার সন্তানদের জীবন পর্যন্ত বিপর্যস্ত।

ডিপ্রেশনের ৮টি মারাত্মক লক্ষণ

‘ডিপ্রেশন’ শব্দটির সাথে বর্তমান যুগে পরিচয় থাকাটা খুবই স্বাভাবিক। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বহুল প্রচলিত একটি শব্দ- ‘ডিপ্রেশন’। কিছু বুঝে কিংবা না বুঝেই এই শব্দটি ব্যবহারের উদাহরণও কম নয়! ছোটখাটো মন খারাপকেও “আমি ডিপ্রেশনে আছি” বলে চালিয়ে দেয়াটা এখন হরহামেশাই ঘটে হয়তো আপনার বন্ধুমহলেও! ডিপ্রেশন মানে কি শুধুই মন খারাপ? নাকি তার চেয়েও অনেক বড় কিছু বোঝায় এই শব্দটি দ্বারা? মানবমনের একটি জটিল স্তরে গিয়ে মানুষ এই ডিপ্রেশনের শিকার হয়। রিডার্স ডাইজেস্ট অনুযায়ী, কেউ ডিপ্রেশনে ভুগছে কিনা তা জানার রয়েছে আটটি লক্ষণ। আজ সেই লক্ষণগুলো নিয়েই কথা বলবো। দেখে নেয়া যাক আসলেই কারা ডিপ্রেশনে ভুগছেন এবং কাদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে এই লক্ষণগুলো?

. অনুভূতিগুলো বেশিরভাগ লুকিয়ে রাখা

অন্য কারো সাথে, প্রিয়জনদের সাথে, এমনকি কখনো কখনো নিজেদের সাথেও তারা তাদের সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলতে চায় না, সেগুলো লুকিয়েই রাখে। সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলতে তাদের ভালো লাগে না, তাই কখনো কারো সাথে ভাগ করে নিলে সেটি আরো স্পষ্টতা পাবে, এ ভয়ে সেগুলোকে সামনেই আসতে দেয় না। কিন্তু তাতে কি সমস্যা চলে যায়? চেপে রাখার কারণে তা আরো বাড়ে। কিন্তু সমস্যা নিয়ে ভাবাটাও তারা ভয় পায়। যতদিন পারা যায় পালিয়ে বেড়ায় এবং সমস্যাগুলোকে এর চূড়ান্ত পর্যায় পর্যন্ত বাড়তে দেয়। কোনো মন খারাপ বা কষ্টের অনুভূতিকে প্রকাশ করে না, কারণ তারা ভয় পান যে তা বেরিয়ে এলে কোনোভাবেই নিজেকে সামলাতে পারবে না, অনুভূতিগুলোকে তাই দমিয়েই রাখা হয়। কিন্তু একদিন সেগুলো একসাথে বিস্ফোরিত হবে, তখন? ডিপ্রেশনে ভোগা মানুষেরা অনুভূতির সকল দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখে, ভ্যাপসা পরিবেশে একসময় নিজেরই গুমোট লাগে।
অনুভূতি থেকে পালানো; source: pinterest.com

. ভালো বা খারাপ- কোনোটাই না থাকা

সাদা-কালোর মাঝখানে থাকা এক ধূসর এলাকায় আটকা পড়ে থাকে তাদের মন, বর্তমান সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং তারা নিজে। তারা কখনো সত্যি করে বলেন না যে, তারা ভালো আছে না খারাপ! হয়তো নিজেরাই খুঁজে পায় না সেই ভালো থাকা না থাকার উত্তরটি। কেউ যখন জিজ্ঞেস করে, “কেমন আছেন?”, তখন সেই প্রশ্নটির উত্তর দিতে গিয়ে যেন ভাবনায় পড়ে যায় অথবা প্রতিদিন একটি মেকি প্রত্যুত্তর থাকে, “ভালো আছি” বা “আমি তো সবসময় ভালোই থাকি”। এটা যেন প্রশ্নকারীকে খানিকটা এড়িয়ে যাবার জন্যই জোর করে বলা।
ভালো না খারাপ আছে- নিজেই জানে না! source: maxmag.gr

. ইচ্ছে করেই প্রচন্ড ব্যস্ত একটি জীবন বেছে নেয়া

দমিয়ে রাখা অনুভূতিগুলোর সাথে এঁটে উঠতে না পারার কারণে তারা বেছে নেয় নিজেদের প্রচন্ড ব্যস্ত রাখার পথটি, যাতে নিজের জন্য নিজেরই সময় না মেলে, অনুভূতিগুলো অতল গহ্বরে যাতে আরো চাপা পড়ে যায়। পড়াশোনা, চাকরি, অতিরিক্ত কাজের চাপ- সব মিলিয়ে তারা ধীরে ধীরে নিজেদের ডুবিয়ে দেয় একধরনের স্বেচ্ছাক্লান্তিতে। একটুও অবসর সময় রাখে না, দমবন্ধ একটি জীবন, তবু প্রাণ খুলে শ্বাস নিতে চায় না তারা! নিজের কাছ থেকে নিজেই কি পালায়? একটু বিনোদন, প্রিয়জনের সঙ্গ কিংবা একলা বসে ভাবা- কিছুই চায় না, নাকি পারে না? ডিপ্রেশন তাদেরকে তা করতে দিচ্ছে না। অতঃপর ধীরে ধীরে তলিয়ে যাওয়া হয় অতি পরিশ্রমে।
ধীরে ধীরে সবার কাছ থেকে হারিয়ে যাওয়া; source: sightsider.net

. অল্পতেই রেগে যাওয়া

কারো অল্প হাসি বা আনন্দের প্রকাশেও যেন বিরক্ত লাগে তাদের। কেউ ভালো কথা বললেও আর ভালো লাগে না। একটু পরপর রাগ হয়। সুখ-দুঃখের অনুভূতিকে চাপা দিয়ে তাদের সকল আবেগের বিকল্প হিসেবে তখন দেখা দেয় রাগ। অল্পতেই, হয়তো অকারণেই রেগে যায় আশেপাশের সবার ওপর। দূরত্ব সৃষ্টি হয় তাদের সাথে। তাৎক্ষণিক রাগের বহিঃপ্রকাশটা বেশ প্রবল হয়। কাউকে আঘাত করা বা জিনিসপত্র ভাংচুর পর্যন্তও গড়ায়। আগে যদি এই স্বভাব না থেকেও থাকে, তবুও ডিপ্রেশনের সময় এমনটা হতে পারে। ব্যক্তির নিজের উপরও রাগ হয়, এলোমেলো কারণ দর্শায়, নিজেই বুঝতে পারে না কী এই রাগের উৎস? উত্তর- ডিপ্রেশন।

৫. অহেতুক ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ করা

ডিপ্রেশনে আক্রান্তদের, বিশেষত পুরুষদের মধ্যে কোনো কারণ ছাড়াই ঝুঁকি নেবার প্রবণতা বেড়ে যায়। খুব জোরে গাড়ি চালানো, পথ চলতে অন্যমনস্কতা, অতিরিক্ত ধূমপান কিংবা মদ্যপান, জুয়া খেলা, নিজেকে বা অন্যকে আঘাত করা ইত্যাদি ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ দেখা দেয়। “যা ঘটে ঘটুক”- এ ধরনের একটা আচরণ দেখা দেয় ডিপ্রেশনে ভোগা মানুষের মধ্যে। দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই তারা এড়িয়ে যায়, সামাজিক সম্পর্কে অবনতি দেখা দেয়, নিঃসঙ্গতা পেয়ে বসে। তারা নিজের অজান্তেই এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজের মধ্যে ডুবে যায় এবং নিজের জীবনের অনেক ক্ষতি করে ফেলে।
চিন্তা-ভাবনায় দেখা দেয় অস্পষ্টতা; source: everydayhealth.com

৬. চিন্তা-ভাবনায় অস্পষ্টতা

সব সমস্যাকে চেপে রাখার ফলে মস্তিষ্কের অবস্থা এমন হয় যে ভালো করে কিছু চিন্তা করতেই পারে না। কোনো একটি বিষয়ে ফোকাস করে তা নিয়ে ভাবা এবং পর্যায়ক্রমে সমাধান করাও হয়ে ওঠে দুঃসাধ্য একটি ব্যাপার। ভাবনায় খেই হারিয়ে ফেলা, অবিন্যস্ত কথোপকথন, কথায় যুক্তি কিংবা আবেগ দুটোরই প্রবল অভাব, কথা বলা কমে যাওয়া, কথা খুঁজে না পাওয়া ইত্যাদি ডিপ্রেশনের লক্ষণ। চিন্তা-ভাবনা ও তা প্রকাশের মাধ্যমেই একটি সফল যোগাযোগ স্থাপিত হয়। কিন্তু যখন ভাবনার গতি খুব ধীর হয়ে যায়, তখন সেভাবে কথাও আসে না আর যোগাযোগেও দেখা দেয় অস্পষ্টতা। এ সময় মানুষ প্রচন্ড সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে। কী খাবে, কোথায় যাবে, কী কিনবে এসব সিদ্ধান্ত নেয়াও বেশ কঠিন কাজ বলে মনে হয়, অন্যান্য সমস্যার কথা ভাবা তো দূরের কথা!

৭. নিজের পছন্দের কাজগুলো আর না করা

নিজের সৃজনশীলতার সাথে সম্পর্কিত কোনো কাজ, যেমন ছবি আঁকা, ছবি তোলা, গান গাওয়া, লেখালেখি, নাচ করা ইত্যাদি সব ধীরে ধীরে কমিয়ে দেয়া এবং একসময় আর না করা ডিপ্রেশনের একটি মারাত্মক লক্ষণ। যে কাজগুলো একজন শুধু করার জন্য করে না, বরং আত্মতৃপ্তির জন্য করে, তা নিজেকে পথচলার শক্তি যোগায়। কিন্তু ডিপ্রেশনে ভোগা মানুষগুলো সেই কাজগুলো করাই একসময় থামিয়ে দেয় এবং নিজেদের মধ্যে সেগুলো করার কোনো তাগিদ অনুভব করে না বলে জানায়। আশেপাশের মানুষজন অবাক হয়, হয়তো সে নিজেও অবাক হয়। কিন্তু তবু কোথায় কেমন যেন ছন্দপতন ঘটে যায়!
ডিপ্রেশন গ্রাস করে ফেলে ব্যক্তিটিকে; source: affinitymagazine.us

৮. অন্তর্মুখী ও এককেন্দ্রিক হয়ে পড়া

ডিপ্রেশনে ভোগা মানুষটির জীবনে ধীরে ধীরে অন্যের জায়গা কমে যেতে শুরু করে এবং সবটুকু জুড়ে শুধু সে-ই থাকে। অন্যের ভালোলাগা, মন্দলাগা বা কোনো অনুভূতি তার কাছে তেমন কোনো দাম পায় না। একসময় নিজেও ব্যাপারটা বুঝতে পারে এবং এজন্য নিজেকে দোষী ভাবে। কিন্তু তারপরও নিজস্ব সেই গন্ডি থেকে বের হতে পারে না। পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, প্রেমিক-প্রেমিকা সহ সব ধরনের ব্যক্তিগত ও সামাজিক সম্পর্কে অবহেলা, কারো মতামতকে প্রাধান্য না দেয়া, নার্সিসাস কমপ্লেক্সের সূত্রপাত ইত্যাদি লক্ষণ দেখা যায়। এর ফলে সকলেই ব্যক্তিটির কাছ থেকে দূরে সরে যেতে শুরু করে এবং সে পুরোপুরি একা হয়ে পড়ে। একাকিত্ব যত গ্রাস করে, ডিপ্রেশন আরো বাড়তে থাকে। একধরনের চক্রাকার প্রক্রিয়ায় ডিপ্রেশন গিলে খায় ব্যক্তিটিকে এবং তার জগতটাও ক্রমশ ছোট হয়ে আসে। 

ফিচার ইমেজ- annabelle.ch

ডিপ্রেশন কেন হয়

আমাদের প্রতিদিনের জীবনে নানা রকম ঘটনার চাপে পড়ে মন খারাপ হয়ে যায়। ছেলে বা মেয়ে অসুস্থ কিংবা ব্যবসায়ে বিপর্যয়ের মতো ঘটনা আমাদের মানসিক কষ্ট বাড়িয়ে দেয়। মনের এরকম অবস্থাকে আমরা বলি বিষণœতা বা ডিপ্রেশন। এরকম অবস্থা অনেকে কাটিয়ে উঠতে পারে আবার কেউ পারে না। যারা পারে না, তারা দিনের পর দিন মানসিক কষ্টে ভোগে, দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হয় এবং একটা স্থবির জীবন যাপনে বাধ্য হয়। তখন এটি একটি রোগেরপর্যায়ে দাঁড়িয়ে যায়। এর জন্য চিকিৎসা প্রয়োজন।
ডিপ্রেশন কাদের হয়?
যেকোনো দেশের জনসংখ্যার প্রায় ১০ থেকে ২০ শতাংশ লোক বিষণœতা রোগে ভুগে থাকে। মেয়েদের এ রোগে ভোগার প্রবণতা পুরুষের চেয়ে দ্বিগুণ। বেকার ও নিঃস্ব জীবন যাপনকারীরাও (বৃদ্ধ, স্বামী পরিত্যক্ত স্ত্রী) এ রোগে বেশি ভুগে থাকেন। যারা বিভিন্ন ধরনের নেশা করে তাদের মধ্যেও ডিপ্রেশনের হার বেশি।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ১৮ থেকে ৪৪ বছরের মধ্যে সাধারণত এ রোগ বেশি হয়। আগে একটি ধারণা ছিল, সাধারণত বয়স্কদের এ রোগ হয়। কিন্তু এ ধারণা বোধ হয় এখন আর টিকছে না। আধুনিক নাগরিক জীবনের চাপ সব হিসাব ওলট-পালট করে দিচ্ছে।
ডিপ্রেশন কেন হয়?
১। জেনেটিক কারণ : পরিবারের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনের মধ্যে ডিপ্রেশন থাকলে এই রোগ হতে পারে।
২। বায়োকেমিক্যাল কারণ : সাধারণত আমাদের ব্রেনের মধ্যে নানা রকম জৈব রাসায়নিক বস্তু সুষমভাবে থাকে। এগুলো ব্রেনে বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকে। যখন এসব রাসায়নিক বস্তুর ঘাটতি ঘটে, তখন ডিপ্রেশন হতে পারে।
৩। ব্যক্তিত্ব : বিশেষ ধরনের ব্যক্তিত্বের মধ্যে (উদ্বেগপ্রবণ, অল্পকিছুকে বড় মনে করা) এ রোগের পরিমাণ বেশি দেখা দেয়।
৪। মা-বাবাহীনতা : দেখা গেছে, যেসব শিশু কোনো কারণে মা-বাবার স্নেহ থেকে বঞ্চিত অথবা মা-বাবার পারস্পরিক বিরোধ ও কোন্দলের মধ্যে বড় হয়েছে, তাদের মধ্যে পরবর্তীকালে ডিপ্রেশনের পরিমাণ বেশি।
যেসব ঘটনা ডিপ্রেশন বাড়িয়ে দেয়
১। অসুখী বিবাহ
২। কর্মস্থলের সমস্যা
৩। বাসস্থানের সমস্যা
৪। একাকিত্ব
ডিপ্রেশনের লক্ষণ
১্ মনে অশান্তি, কষ্ট, মন খালি খালি লাগা ও দুশ্চিন্তাবোধ।
২। নেতিবাচক মনোভাব, সব কিছুতে হতাশা ও নিজের কোনো ভবিষ্যৎ নেই ভাবা।
৩। উৎসাহহীনতা।
৪। আনন্দদায়ক কাজে আনন্দ না থাকা। 
৫। নিজেকে অপরাধী ভাবা।
৬। কাজকর্মে, চলাফেরায় ধীর হয়ে যাওয়া।
৭। মৃত্যুর চিন্তাভাবনা, আত্মহত্যার চিন্তাভাবনা (এমনকি অনেকে এ রোগে আত্মহত্যাও করে বসে)।
৮। মনোযোগহীনতা, বিরক্তি ভাব।
৯। আত্মবিশ্বাসের অভাব।
১০। স্মরণ শক্তির সমস্যা।
১১। সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা।
১২। শরীর ও মাথাব্যথা।
১৩। ঘুমের সমস্যা।
১৪। খাওয়ায় অরুচি।
১৫। সেক্স সম্বন্ধে উৎসাহ কমে যাওয়া।
ডিপ্রেশনের চিকিৎসা
১। বিষণœতা বিরোধী ওষুধ একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মনোচিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে খেতে হবে।
২। বিষণœতার ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক কারণ থাকলে তার সমাধান করতে হবে।
৩। সাইকোথেরাপি : রোগীর জীবন ও রোগ সম্বন্ধে নেতিবাচক চিন্তাভাবনা দূর করতে হবে।

Wednesday, October 12, 2016

কন্ডাক্ট ডিজঅর্ডার চিকিৎসা (ওষুধ ও পরিবার)

এগারো বছরের ক্লাস ফাইভের একটা বাচ্চা ছেলে মাথাব্যথা নিয়ে আমাদের ওয়ার্ডে ভর্তি হল। অনেকদিন যাবত তার মাথা ব্যথা, তবে মাঝে মাঝে সেটা বেড়ে তীব্র হয় যেমনটি এবার হয়েছে। স্কুল যাওয়া বন্ধ। এজন্য মা খুব ব্যতিব্যাস্ত। মাথাব্যথার জন্য শিশু ডাক্তার, নিউরলজি ডাক্তারসহ আরও অনেকেই দেখানো হয়েছে। অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে সবই স্বাভাবিক পাওয়া গেছে, ওষুধ নিয়মিত খাওয়ানো হয় কিন্তু মাথা ব্যথা কমে না। আমরা বাচ্চাটির সাথে বেশ কয়েকবার কথা বলে জানতে পারলাম বাচ্চাটি একটি সাইকেল কিনতে চেয়েছিল এবং মা দিতে চায়নি, তারপর থেকে তার মাথা ব্যথা চরম আকার ধারণ করে। আগের মাথা ব্যথাগুলোও দেখা যায় কোন না কোন আবদারের সাথে জড়িত। ছেলেটি তিন ভাই বোনের মধ্যে সবার বড়। বাবা বিদেশ থাকেন, মা একা তিন বাচ্চা নিয়ে সংসার সামাল দিয়ে যাচ্ছেন।
ছেলেটি বেপরোয়া ধরণের। মায়ের কথা শোনে না, মাকে মাঝে মাঝে মারে, স্কুলে যেতে চায় না, খেলতে গেলে বন্ধুদের সাথে মারামারি করে, বিভিন্ন জায়গায় আগুনও লাগায়, ছোট ছোট পোকামাকড় ধরে ধরে টেনে টেনে তাদের ছিড়ে, ছোট ভাইবোনদের মারে, ইত্যাদি অত্যাচারে মা ভারী বিরক্ত। মা মাঝে মাঝে মারে বাচ্চাটিকে, কিন্তু বাচ্চাকে বুঝিয়ে কমই বলে, বাচ্চার ভালো কাজের প্রসংসা করা হয় না, জিনিস পত্র চাইলে সব ক্ষেত্রেই বাচ্চা ভাংচুর না করা পর্যন্ত দেয় না, অনেক সময় মা না দিলে বাচ্চাটির নানা নানী, মামা মামীরা তার আবদার পুরন করে।
আমরা সবাই মিলে দেখে এই সিধান্তে উপনীত হলাম যে, বাচ্চাটির এবারের রোগটি হল ‘কনভার্সন ডিজঅর্ডার’, যেটা তার সাইকেল না পাওয়াতে মাথা ব্যথা দেখা দিয়েছে এবং তার আগের একরম ঘটনা অনেক ঘটেছে এবং এবার বাচ্চাটি সেইটাই প্র্যাকটিস করেছে। কিন্তু বাচ্চাটির আরেকটি আচরণগত রোগ আছে সেটা ‘কন্ডাক্ট ডিজঅর্ডার’।
এই বাচ্চার দুটি রোগের চিকিৎসায়ই ওষুধের ভূমিকা খুবই কম। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এটা তার মাকে বিশ্বাস করানোই আমাদের জন্য বেশ কঠিন হয়ে গেলো। যদি বিশ্বাসই না করানো যায় তাহলে চিকিৎসা আরও কঠিন হয়ে যাবে। অনেকবার অনেকভাবে বোঝানোর পর বাচ্চাটির মেনে নিল এবং চিকিৎসা শুরু হল। কয়েকদিনের মধ্যে মাথা ব্যাথা চলে গেলো। কনভারসান ডিসঅর্ডার এবারের মত গেলো কিন্তু কন্ডাক্ট ডিসঅর্ডার ত চিকিৎসা করা দরকার। নিয়ম অনুযায়ী বাচ্চা, মা ও ডাক্তার বসে একটি বাস্তবায়ন যোগ্য রুটিন করা হল। মাকে বোঝানো হল প্যারেন্টিং এর সঠিক প্রশিক্ষণ। সামান্য ওষুধ, সাইকথেরাপি, রুটিন, প্যারেন্টিং প্রশিক্ষণ সব মিলিয়ে বাচ্চাটি উন্নতি বোধ করল ও ছুটি নিয়ে বাড়িতে গেলো। আমরা দুই সপ্তাহ পরে বহিঃ বিভাগে যোগাযোগ করতে বললাম। একমাস পরে আবার বাচ্চা ও তার মাকে দেখা গেলো। মা বললেন বাসায় গিয়ে ভালই ছিল বাচ্চাটি এবং মা সেখান নিয়ম অনুযায়ী পালন করতে পেরেছিলেন, ছেলেটিও স্কুলে নিয়মিত হয়েছিল, রুটিন মেনে ছিল কিন্তু এবার ছেলেটি একটি ট্যাব কিনতে চায় এবং আবার মাথা ব্যাথা দেখা দিয়েছে।
বাচ্চাদের রোগ ও রোগের চিকিৎসা দুটোতেই পরিবার ও বাবা-মার খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বিদ্যমান। শুধু ওষুধে কাজ হবে এমন মানসিক ও আচরণগত রোগ পাওয়া বেশ কঠিনই।
আমাদের সমাজে কেন জানি সবাই ভাবতে থাকি রোগ হয়েছে ওষুধ খেলেই ভালো হয়ে যাবে। আমাদের রোগীদের সাথে সাথে বাবা মাদের নিয়ে যে কাজ করতে হয় তা রোগীদের নিয়ে কাজের চেয়ে কম নয় বেশি বৈকি। মুশকিল হয়ে যায়, যখন রোগীরা বোঝেন তাদের রোগের চিকিৎসার বিস্তারিত কিন্তু আমরা বাবা মা দের বুঝাতে পারি না তাদের ভূমিকা, রোগ হওয়া ও রোগের চিকিৎসায়।

Wednesday, August 24, 2016

যখন উচ্চ পদে স্ত্রী

আয়েশার (ছদ্মনাম) মনে আজ খুবই আনন্দ। সরকারি ব্যাংকের, চাকরি জীবনে তার এই দিনটি চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে। দুপুরের দিকে সে জানতে পারল যে অফিসে ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে তাকেই নির্বাচিত করা হয়েছে। তার সাথে পদোন্নতির তালিকায় আরও তিনজন সহকর্মীও ছিল। শেষ পর্যন্ত তার রিপোর্ট ভাল থাকায় তাকেই নির্বাচিত করা হয়েছে। এটা আয়েশার জন্য বিরাট এক পাওয়া। একজন নারী হিসেবে পুরুষ সহকর্মীদের কাছ থেকে সবসময়ই নানা বিরূপ মন্তব্য তাকে সহ্য করতে হয়েছে। তার এই খুশির কথা কাকে প্রথম বলবে, আর এই আনন্দ কার সাথে ভাগাভাগি করবে, তা চিন্তা করতে গিয়ে বাড়ির এক প্রতিকূল চিত্র তার চোখের সামনে ফুটে উঠল। নিজ কর্মক্ষেত্রের এই সাফল্যের কথা স্বাভাবিকভাবেই সর্বপ্রথম নিজের জীবনসঙ্গীকেই বলার ইচ্ছা জাগে। কিন্তু নিজের বাড়িতে তার এই পদোন্নতি যেন এক অভিশাপ। তার স্বামী স্কুলশিক্ষক। 

আয়েশা জুনিয়র অফিসার হিসেবে ব্যাংকে প্রবেশ করে। ধীরে ধীরে তার পদোন্নতি হতে থাকে আর সাথে সাথে বাড়তে থাকে পারিবারিক অশান্তি। শেষে সংসার টিকিয়ে রাখতে নিজের পদোন্নতি, বেতন সব তথ্যই সে তার স্বামীর কাছ থেকে লুকোনো শুরু করে। তার এই সাফল্য তার জীবনের সবচেয়ে বড় অপরাধে পরিণত হয়। সে তার কাজের ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে স্বামীর কাছ থেকে কখনো অনুপ্রেরণা তো পায়ইনি, বরং সবসময়ই শুনেছে তিরস্কার। তাই সেই কষ্টকে মেনে নিয়ে পদোন্নতির কথা ভুলে গিয়ে, বাড়ি এসে স্বামীর সেবায় মগ্ন হয় আয়েশা। এ চিত্র শুধু আয়েশার জন্যই নয়, সমাজের বেশিরভাগ নারীর জন্যই প্রযোজ্য। স্বামীর চেয়ে স্ত্রী উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হলে স্বামীর পক্ষে তা মেনে নেয়া খুব কঠিন হয়ে পড়ে। স্ত্রীর চাকরি জীবনে সাফল্যের জন্য তাকেই দোষী করে তোলা হয়। একজন স্বামীর কর্মক্ষেত্রের সাফল্যকে স্ত্রী তার নিজের সাফল্য হিসেবে মেনে নেয়। প্রতি মুহূর্তে স্বামীর সেবা-শুশ্রূষা করে তাকে সুস্থ, সবল ও কর্মক্ষম রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে থাকে যেন সে তার চাকরি ক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে পারে। সেখানে একই স্ত্রী যখন চাকরি ক্ষেত্রে নিজের সাফল্যের পথে এগিয়ে যেতে থাকে তখন প্রতি মুহূর্তে তাকে বাধার মুখোমুখি হতে হয়। 

স্বামীর সেবায় যথেষ্ট মনোনিবেশ করতে না পারার কারণে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্বামী তার স্ত্রীর সাফল্যকে নিজের জন্য গৌরবের হিসেবে মেনে নিতে পারে না। সামাজিকভাবেও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের মুখোমুখি হতে হয় একজন স্বামীকে, যদি তার স্ত্রী উচ্চপদস্থ ও বেশি আয়ের কর্মকর্তা হয়। সমাজের এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন খুবই জরুরি। একজন স্বামীর সাফল্যের পেছনে যদি অনুপ্রেরণা জোগায় তার স্ত্রী, তবে স্ত্রীর সাফল্যের পেছনে কেন তার স্বামী অনুপ্রেরণা হতে পারে না? স্ত্রী স্বামীর চেয়ে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হলে, কেন তা স্বামীর ব্যক্তিত্বে আঘাত হানে ও পারস্পরিক রেষারেষির কারণে পারিবারিক কোন্দল সৃষ্টি করে। বহুকাল ধরে সামাজিকভাবে চলে আসা ধ্যান-ধারণার প্রভাবেই সৃষ্টি হয় এই সংঘাতের। তাই সামাজিকভাবে প্রচলিত এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে। স্বামীর অগ্রযাত্রায় স্ত্রীকে যেমন বন্ধু হিসেবে সাহায্য করতে হবে, তেমনি স্বামীকেও তার স্ত্রীর অগ্রযাত্রার পথে সহযোগী হিসেবে এগিয়ে আসতে হবে।

কখনো কখনো দেখা যায় স্বামী তার চাকরি ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছে বা হাল ছেড়ে দিয়েছে কিন্তু পাশাপাশি স্ত্রী নিজ গুণে নিজ ক্ষেত্রে এগিয়ে চলেছে। সেক্ষেত্রে স্ত্রীর উপর শুরু হয় স্বামীর ভিন্ন ধরনের নিপীড়ন। এমনই এক নারী তানজিনা (ছদ্মনাম)। তার স্বামী এনজিওকর্মী। নিজ চাকরি ক্ষেত্রে এগুতে না পেরে হতাশ। তার স্ত্রী তানজিনা বেসরকারি ব্যাংককর্মী। প্রতিদিন বাড়ি গেলেই তার ওপর শুরু হয় নিপীড়ন। কেন সে ব্যাংক ঋণ নিচ্ছে না? কেন সে তার স্বামীর নামে ক্রেডিট কার্ড, ভিসা কার্ড করছে না। অতিরিক্ত চাওয়ার মধ্য দিয়ে নিপীড়নের এই ধারাও তার জীবনের প্রতি, তার কাজের প্রতি বিতৃষ্ণার জন্ম দিচ্ছে। এ ধরনের অত্যাচার থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায় চাকরি ছেড়ে দেয়া। এভাবে অতিরিক্ত চাওয়া-পাওয়ার কারণে সম্পর্কের টানাপড়েন সৃষ্টি হয়। বর্তমানে অবস্থার কিছু পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে। কিন্তু তারপরও নারী-পুরুষের সামাজিক বৈষম্যের কারণে শেষ পর্যন্ত নারীকেই সবকিছু ছেড়ে আসতে হয়। স্ত্রীর প্রতি রাগ প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে স্ত্রীর কাজের ক্ষেত্রে এগিয়ে যাবার পথে বাধা সৃষ্টি করা উচিত নয়। বরং স্বামীকে তার স্ত্রীর পাশে সহযোদ্ধা হিসেবে দাঁড়াতে হবে এবং স্ত্রীর জয়কে স্বামীর পক্ষ থেকে নিজের জয় হিসেবে মেনে নিতে হবে। তবেই উচ্চপদস্থ স্ত্রীর কাছে তার স্বামীই হবে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। দু'জনের জয়ে নিজেরা হবে সুখি, পাশাপাশি তাদের সংসার জীবনও হবে সুখের।

মানসিক সমস্যাগ্রস্ত প্রেসিডেন্টদের সাফল্যের কাহিনি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার মানসিক সমস্যা ছিল। তবে এটি তাদের সঙ্কটময় পরিস্থিতি সামাল দিতে সহায়তা করেছিল বলে দাবি করেছেন সে দেশের কয়েকজন মনোবিজ্ঞানীরা।  

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. নাসির গায়েমি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন, প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি, জেনারেল ইউলিসিস এস গ্রান্ট, উইলিয়াম টিকামসা শেরম্যান, নাগরিক অধিকার নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রসহ অনেক নেতাই তাদের মানসিক সমস্যার সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন। তারা মাঝে মধ্যে বিষণ্নতায়ও ভোগতেন।       

অধ্যাপক নাসির গায়েমি ঐতিহাসিক ব্যক্তিদের মানসিক সমস্যা নিয়ে লেখালেখি করছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল, ভারতের মহাত্মা গান্ধিসহ অনেক ঐতিহাসিক নেতারা মানসিক সমস্যা থাকা সত্ত্বেও তারা সফল হয়েছিলেন বলে তার দাবি।  

আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের পেশাদার অনুশীলন প্রকল্পের প্রধান ক্যাথেরিন নরডাল বলেন,‘ওইসব মানসিক সমস্যার মধ্যে কিছু আছে যা ভালো কিছুতে ভূমিকা রাখে।’   

গায়েমি বলেন, ‘কিছু মানুষের মানসিক সমস্যা আমার দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশংসনীয়।’

এ ইস্যু নিয়ে একটি বইও লিখেছেন গায়েমি। তার বইয়ের নাম ‘এ ফার্স্ট রেট ম্যাডনেস: আনকভারিং দ্য লিঙ্কস বিটুইন লিডারশিপ অ্যান্ড মেন্টাল ইলনেস’। বিখ্যাত ব্যক্তিদের নিয়ে এই বই লিখতে গিয়ে তিনি মেডিকেল এবং ঐতিহাসিক রেকর্ড বিশ্লেষণ করেছেন।  

গায়েমি বলেন, ‘বিষণ্নতায় আক্রান্ত অধিকাংশ ব্যক্তিরা অধিক মাত্রায় সৃজনশীল, সহানুভূতিশীল, বাস্তববাদী হয়ে থাকেন। তারা সঙ্কটময় মুহূর্তে সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হন। কিন্তু শান্তি ও সমৃদ্ধি থাকাকালে সফলতা অর্জন করতে ব্যর্থ হন।   

দুজন নেতার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, শেরম্যান গুরুতর বিষণ্নতায় ভুগেছিলেন। জনশ্রুতি আছে তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন। জেনারেল জর্জ ম্যাকক্লেলান মানসিকভাবে সুস্থ ছিলেন। কিন্তু জটিল পরিস্থিতিতে তিনি সফল জেনারেল ছিলেন না। গ্রান্ট প্রচুর পরিমানে মদ পান করতেন কিন্তু যুদ্ধের সময় তিনি পারদর্শিতার পরিচয় দিয়েছিলেন। তবে শান্ত অবস্থায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি ভালো করেননি।

গায়েমি আরও বলেন, ‘উইনস্টন চার্চিলও দীর্ঘমেয়াদি মানসিক বিষণ্নতায় ভুগছিলেন। তিনি এ বিষয়ে খোলামেলা ছিলেন। তার এই মানসিক অসুস্থতার বিষয়টিকে তিনি ‘ব্ল্যাক ডগ’ বলে সম্বোধন করতেন। যুদ্ধকালীন সঙ্কটে চার্চিল ব্যাপক পারদর্শিতা দেখিয়েছেন। কিন্তু যুদ্ধ পরবর্তী শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন।’ সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।    

আপনার সহকর্মী কি মানসিক রোগী? ১২ লক্ষণে বুঝে নিন

আপনার সহকর্মীর সঙ্গে কাজ করতে যদি সুবিধা না হয় কিংবা তিনি যদি প্রায়ই আপনার সঙ্গে বিরূপ আচরণ করে তাহলে খুবই হতাশ হন? এ ধরনের পরিস্থিতিতে পড়লে আপনার সহকর্মীর কোনো মানসিক সমস্যা রয়েছে কি না, জেনে নিন। কারণ সহকর্মীর বিরূপ আচরণের পেছনে থাকতে পারে মানসিক সমস্যা। এ লেখায় দেওয়া হলো ১২ লক্ষণ, যা মিলে গেলে বুঝবেন সহকর্মী একজন সাইকোপ্যাথ। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে বিজনেস ইনসাইডার। 

  1. দুঃখবাদী তিনি যদি সর্বদা এমন আচরণ করেন, যা মন খারাপ করে দেয় তাহলে সতর্ক হোন। এ ক্ষেত্রে তার আচরণ হতে পারে দুঃখবাদী। এ ছাড়া আরেকটি বড় উদাহরণ হতে পারে ধ্বংসচেষ্টা। অর্থাৎ কোনো বিষয় ঠিক করার বদলে ধ্বংস করে ফেলার আগ্রহ থাকতে পারে এ ধরনের মানুষের মাঝে। 
  2. মেকি উপস্থাপনায় স্বাচ্ছন্দ্য সাইকোপ্যাথরা নিজেকে সুস্থভাবে উপস্থাপনে যথেষ্ট পারদর্শী। স্বাভাবিক কথাবার্তায় তারা নিজের মানসিক সমস্যা গোপন করে নিজেকে সাবলীলভাবে উপস্থাপন করতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে তাদের গভীরতা কম হয়। অল্প আলোচনায় অনেকেরই ধারণা হয় যে ব্যক্তিটি যথেষ্ট ভালো ও ছিমছাম মানুষ। 
  3. কল্পনায় নিজেকে বড় মনে করা সাইকোপ্যাথরা প্রায়ই নিজেকে বড় কোনো ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করেন। তারা প্রায়ই কল্পনার রাজ্যে বসবাস করেন। এ কারণে তারা অনেকে নিজেকে বিশ্বের ক্ষমতার কেন্দ্রের ব্যক্তি হিসেবে কল্পনা করেন। 
  4. প্যাথলজিক্যাল মিথ্যাবাদী সাইকোপ্যাথরা প্যাথলজিক্যালি মিথ্যাবাদী হতে পারেন। তারা মূলত আবেগ নিয়ে মিথ্যা কথা বলেন। এ কারণে তাদের মিথ্যাকে সহজেই সত্য বলে ভ্রম হতে পারে। 
  5. পরাশ্রয়ী এ ধরনের ব্যক্তিরা মানসিকভাবে পরাশ্রয়ী জীবনযাপন করেন। তারা প্রায়ই শুধু নিজের কথাই ভাবেন। এ জন্য তারা অন্যের কথা ভাবতে মোটেই আগ্রহী থাকেন না। আর এ কারণে তাদের জীবনযাপন বিষয়ে কোনো সমালোচনাও তারা সহ্য করেন না। 
  6. ধূর্ত এবং ধান্দাবাজ এ ধরনের ব্যক্তিরা প্রায়ই ধূর্ত এবং ধান্দাবাজ ধরনের হয়ে থাকেন। এ কারণে তারা প্রায়ই কোনো বিষয়ের সঠিক চিত্র উপস্থাপন না করে নিজের মনগড়া বিষয় উপস্থাপন করেন। এ ছাড়া তারা নিজের বিষয়ে উচ্চ ধারণা পোষণ করার কারণে প্রায়ই মিথ্যার আশ্রয় নেন। 
  7. আচরণে মারাত্মক সমস্যা এ ধরনের ব্যক্তিরা আচরণগত সমস্যায় ভোগেন। এ কারণে প্রায়ই তাদের সহকর্মীরা বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হন। তাদের আচরণ শুধু কর্মক্ষেতেই অন্যদের ত্যক্ত করে না, কর্মক্ষেত্রের বাইরেও নানা কারণে তারা আচরণের কারণে সমালোচিত হন। 
  8. দোষ স্বীকার ও রসবোধের অভাব এ ধরনের ব্যক্তিরা নিজস্ব ভুল-ভ্রান্তি কোনোভাবেই স্বীকার করতে চান না। এ ছাড়া তাদের রসবোধের অভাবও প্রকট। এ কারণে অনেকেই এ ধরনের মানুষকে পছন্দ করেন না। 
  9. অবাস্তব দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য এ ধরনের ব্যক্তিরা কল্পনার জগতে বাস করায় তাদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য প্রায় সময়ই অবাস্তব হয়ে থাকে। ফলে তারা একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে থাকলেও নিজেরাই তা বুঝতে পারেন না। 
  10. অস্বাভাবিক আবেগ এ ধরনের ব্যক্তিদের আবেগগত সমস্যা থাকে। অন্য মানুষ যে ক্ষেত্রে আবেগে আপ্লুত হয়ে যায় সে ক্ষেত্রে এরা মোটেও কোনো অনুভূতি প্রকাশ করেন না। আবার কোনো ক্ষেত্রে অন্যরা যখন আবেগগতভাবে কোনো আগ্রহ অনুভব করেন না সেখানে এরা আবেগি হয়ে পড়েন। 
  11. সহজেই মেজাজ হারানো এ ধরনের ব্যক্তিরা তাদের মেজাজ ধরে রাখতে পারেন না। সংযত থাকার উদাহরণ তাদের কমই দেখা যায়। কোনো তুচ্ছ কারণেও হঠাৎ করে তারা মেজাজ হারিয়ে প্রচণ্ড রেগে যেতে পারেন। 
  12. আইনের বাইরে মানুষের জন্য বহু ধরনের আইন থাকলেও এ ধরনের ব্যক্তিরা নিজেদের সে আইনের বাইরে মনে করেন। আর এ কারণে তারা অন্যদের আইন মান্য করা অবস্থায় দেখতে চাইলেও নিজেরা আইন মানতে আগ্রহী থাকেন না।